স্থানীয়/জনপদ

শনিবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০১৮ (১৭:৪৬)

নৌকায় ভোট দিন, দারিদ্র্য বলে কিছু থাকবে না

শেখ হাসিনা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটে আবারও নির্বাচিত হয়ে এলে দেশ থেকে দারিদ্র্য পুরোপুরি বিমোচন করার ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার সিলেটের নির্বাচনি জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, আগামীতে যদি ক্ষমতায় আসতে পারি, তাহলে দারিদ্র্য বলে কিছু থাকবে না— সারাদেশের মতো সিলেট বিভাগের চার জেলায়- সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের উন্নয়নের জন্য অনেকগুলো প্রকল্প নিয়েছি। তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছি। আমরা প্রত্যেকটা মানুষের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি ।

শেখ হাসিনা তার সরকারের নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে বলেন, আমরা জনগণের কল্যাণে কাজ করছি। দেশের মানুষের জীবনমান উন্নত করেছি। ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন করেছি। প্রত্যেক ঘরে ঘরে আলো জ্বালবো— এ লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি আর দারিদ্র্য বলে কিছু দেশে থাকবে না।

তারুণ্যই শক্তি, তারুণ্যই দেশের সমৃদ্ধি আনবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দেশকে আমরা গড়ে তুলতে চাই। সে লক্ষ্যে কাজ করছি।

বিগত ২০০১ সালে বিদেশিদের কাছে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় এসেছিল—এ দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা ক্ষমতায় আসার পর দেশকে আবার পিছিয়ে দেয়। আমরা যেসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড শুরু করি সব বন্ধ করে দেয়। শুরু করে একের পর এক মানুষ খুন, বোমা হামলা, জঙ্গিবাদ। কতো মানুষকে তারা হত্যা করেছে, পুড়িয়ে মেরেছে, লুটপাট করেছে। সারাদেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করে। পাঁচ বার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছিল দেশকে। জঙ্গিবাদী দেশ হিসেবে পরিচয় করিয়েছে এ দেশকে। মান-সম্মান শেষ করে দিয়েছিল বিএনপি। তাদের অপকর্মের কারণে বিশ্বদরবারে বাঙালির মাথা নত হয়ে আসে।

কিন্তু ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে আবার দেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করার কাজ শুরু করে। আসলে আওয়ামী লীগ সরকারে থাকলে জনগণের কল্যাণ হয়। ২০০৮ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এই দশ বছরে আমরা বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ একটি দেশ হিসেবে পরিণত করেছি। বাংলাদেশ এখন বিশ্বদরবারে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে মর্যাদা লাভ করেছে।

সিলেট বিভাগের উন্নয়ন নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, টাঙুয়ার হাওরে পর্যটনকেন্দ্র নির্মাণ করে দিচ্ছি— হাওরবাসী যেন শুধু ফসল না, হাঁস-মুরগির চাষ ও অন্যান্য পেশায় যুক্ত হতে পারেন, সেজন্য কাজ করছি। তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছি। এখানকার প্রাচীন নাম ‘শ্রীহট্ট’ নামে এখানে (সিলেটে) আমরা অর্থনৈতিক অঞ্চল করে দিচ্ছি। সিলেট বিভাগের সার্বিক উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। আপনারা জানেন, একসময় শুধু চট্টগ্রামে চায়ের নিলাম হতো। সিলেটে চায়ের নিলামের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। চা-শ্রমিকরা নৌকায় ভোট দেয়। তাদের উন্নয়নের জন্য কাজ করছি। তাদের সন্তানদের শিক্ষার জন্য উদ্যোগ নিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, সিলেট বিভাগের প্রত্যেকটা জেলায় সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সিলেট বিভাগ আমরা দিয়েছি, এখন অবকাঠামো নির্মাণ করে দিচ্ছি, যাতে বিভাগ হিসেবে সিলেট দাঁড়িয়ে যেতে পারে। লন্ডন থেকে সরাসরি বিমান আসা-যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। নান্দনিক স্টেডিয়াম করে দিয়েছি, যা দেখতে বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ আসে।’

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামাত যখন ক্ষমতায় ছিল, আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। এবারও নমিনেশন দেয়ার ক্ষেত্রে প্রতিটি আসনে ৪-৫ জনকে নমিনেশন দিয়েছে। এরপর টাকা নিয়ে, যে বেশি টাকা দিয়েছে, তাকে মনোনয়ন দিয়েছে। এনাম আহমেদ চৌধুরী আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। তাকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি কী বলেছেন, তিনি বলেছেন- টাকা দিলে মনোনয়ন দেয়, না হলে মনোনয়ন নাই। লন্ডনে বসে একজন এসব করছে। একে কী রাজনীতি বলে! এসব করতে দেয়া হবে না।

নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সংগ্রাম করেছি, আন্দোলন করেছি, গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছি। আওয়ামী ক্ষমতায় এলে মানুষের উন্নয়নে কাজ করে। এই সংগঠন উপমহাদেশের অন্যতম পুরাতন সংগঠন। এটি বঙ্গবন্ধুর সংগঠন। নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি, মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার পেয়েছি। আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন, যাতে সরকার গঠন করে আবারও আপানদের জন্য কাজ করতে পারি। আওয়ামী মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করে।’

শেখ হাসিনা আরও বলেন, হবিগঞ্জে আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া সাহেবকে হত্যা করা হয়েছে বিএনপি-জামাত সরকারের আমলে। কতো যে মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে জঙ্গিবাদের দেশ হিসেবে পরিচয় করিয়েছে, সন্ত্রাসের দেশ হিসেবে পরিচয় করিয়েছে। তারা মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে, এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করেছে। এরপর এদেশের মানুষ সংগ্রাম করেছে। ২০০৮ সালে আবারও নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আপনারা আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় এনেছেন। গত দশ বছরে আমাদের সরকার মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য কাজ করেছে। সারা বিশ্বে আজকে বাংলাদেশ মর্যাদা পেয়েছে।

খালেদা জিয়া ও তারেক রহমোনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকার মামলা দেয়নি। দিয়েছে তারই মনোনীত লোকরা। দশ বছর ধরে সেই মামলা চলেছে। সেই মামলাতেই আজ সে কারাগারে। এদিকে তারেক রহমান একুশে আগস্ট গ্রেনেড দিয়ে মানুষ হত্যা মামলার আসামি, মানি লন্ডারিং মামলার আসামি, আজকে বিদেশের মাটিতে বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে সে।’

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে জঙ্গিবাদমুক্ত উন্নত বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দিয়ে সিলেট বিভাগের চার জেলার সব আসনের আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে সর্বস্তরের মানুষের কাছে ভোট চেয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

ইউটিউবে দেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় সব নাটক ও অনুষ্ঠান দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি:

Desh TV YouTube Channel

এছাড়াও রয়েছে

বিজিবির গুলিতে ৩ জনের মৃত্যুর ঘটনা অনাকাঙ্খিত

চৌদ্দগ্রামে ট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কা, নিহত ৫

চট্টগ্রামে চাক্তাই এলাকায় বস্তিতে আগুন, নিহত ৯

রূপগ‌ঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় দুই মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু

টেকনাফে ১০২ ইয়াবা ব্যবসায়ীর আত্মসমর্পণ

মিরসরাইয়ে কাভার্ডভ্যান-মাইক্রোবাস সংঘর্ষ, নিহত ৩

ঠাকুরগাঁওয়ে বিজিবির গুলি, নিহত ৪

খুলনা-মুন্সীগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ জনের মৃত্যু

সর্বশেষ খবর

ঐক্যফ্রন্টের গণশুনানি নয়, হবে গণতামাশা: কাদের

বঙ্গবন্ধুর ছবি না থাকায় ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতিহাস’ বইটি সরানোর নির্দেশ

বাংলাদেশের শ্রমিক নিয়োগে আমিরাতের ইতিবাচক সাড়া

বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী লুলু-এনএমসি গ্রুপ